,
সংবাদ শিরোনাম :

অনিয়মের মূল হোতা প্রকৌশলী মনোয়ার খান

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বেতারের আঞ্চলিক প্রকৌশলী তিনি । বছর দেড়েক আছে চাকুরি জীবনের । এই সময়ে আঙুল ফুলে গলাগাছ হওয়ার স্বপ্নে বিভোর । গোটা বেতারে রয়েছে তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য । যখন যেমন ইচ্ছে তেমন কর্ম করছেন দাপটের সহিত । সহযোগী হিসেবে সাথে রেখেছেন তারই অধিনস্থ সহকারী প্রকৌশলী মেহেরাজ আহমদ ও বার্তা বিভাগের হিসাব রক্ষক খবির উদ্দিন আখন্দ কে । ফাইলপত্র রেডি করান মেহেরাজকে দিয়ে । হিসেবের ফাইল নয়ছয়ে কাজে লাগান খবিরকে । তার ক্ষমতা নাকি বিশেষ । তথ্য মন্ত্রীর লোক ! তিনি সিলেট বেতারের আঞ্চলিক প্রকৌশলী মনোয়ার খান ।

যার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই । প্রকৌশল বিভাগের এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে তাঁর কালো থাবা পড়েনি । প্রকৌশল বিভাগের জন্য বরাদ্ধকৃত মেইটেনেন্সের টাকা ব্যবহার করছেন নিজের মতো করে । মাসিক ৫০ হাজার টাকা ভাড়ায় গাড়ী দৌড়ান, এই ভাড়ার টাকা বেতারকেই পরিশোধ করতে হয় । থাকেন বিশাল রুমে বেতারেরই জায়গায় অবৈধভাবে । ফ্রিজে সংরক্ষিত থাকে লাল সবুজ পানীয় । রাতের আঁধারে এই রুমেই বসে জলসা । পুরো বেতার জিম্মি তার কাছে । প্রোগ্রাম সেকশন, বার্তা সেকশন কেউ তার বিরুদ্ধে রা শব্দটি করারও সাহস রাখেন না । কথা বললেই ব্ল্যাক মেইলিং । অবৈধ আয়ের একটা বড় অংক খরচ করেন তারই উপর মহলে । আর এই কালো টাকাই তাকে বানিয়েছে সিলেট বেতারের অনিয়ম, দূর্ণীতির মূল হোতা ।

সম্প্রতি সিলেট বেতারের উন্নয়নে ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্ধ হয়েছে । উন্নয়ন পজেক্টের এই বাজেট নিয়ে মনোয়ার খান জন্ম দিচ্ছেন, অনেক কেচ্ছা কাহিনীর । সহযোগী হিসেবে পেয়েছেন বেতারের আরেক প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান কে । যিনি পিডি’র দায়িত্বে আছেন উন্নয়ন পজেক্টের । দুয়ে মিলে গড়ে উঠেছে ম ম সিন্ডিকেট । এই সিন্ডিকেট ধরাকে সরা জ্ঞান করছে । পিডি মুজিবুর নাকি আবার ‘জামাত’ ঘড়ানার লোক ! চাকুরি জীবনে অনেক দূর্ণীতি করেছেন । যার ফিরিস্থি বাংলাদেশ বেতারের অনেকেরই জানা ।

পজেক্টের নামে বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই, দু:সাহসী এই কর্মকর্তারা ১৪৩ টি গাছ কর্তন করেছেন বেতারের । ঠিকাদারও বাগিয়ে নিয়েছেন নিজের মতো করে । গাছ নিলাম পাইয়ে দেয়ার শর্তে, ঠিকাদারের কাছ থেকে নগদ ২ লাখ উৎকোচও নিয়েছেন । যা এখন টক অব দ্যা বেতার । বন বিভাগ এনিয়ে তদন্ত করছে । তদন্ত নিজেদের পক্ষে আনতে, মুজিবুর ও মনোয়ার এখন মরিয়া ।

উচ্চাবিলাসী মনোয়ার খানের স্বপ্ন এখন আকাশমুখী । পজেক্টের টাকায় বিদেশ ভ্রমণের স্বপ্ন এখন দু’চোখ জুড়ে । যন্ত্রপাতি কেনার নামে আমেরিকা এবং জাপান সফরের ধান্ধায় ব্যস্ত । পেছনে শক্তি যোগানদাতা হিসেবে রয়েছেন পিডি মুজিবুর ।

সিলেট বেতারে আগত দুরদুরান্তের শিল্পীদের প্রয়োজনে, পুরনো বেতার ভবনের নীচতলায় একটি ক্যান্টিন চালু ছিলো । মনোয়ার খান সেই ক্যন্টিনের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেন । ক্যন্টিনের পরিচালক তাকে নিয়মিত, ফ্রি খাবার সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় পানি বন্ধের এই শাস্তি । ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় শিল্পীরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন । ক্যন্টিনের লাইন ব্যবহার করে পজেক্টের লেবাররা পানির প্রয়োজন মেটাচ্ছে । যা শুধু অনিয়মই নয়, শিল্পীদের সাথে বিমাতাসূলভ আচরন । লেবারদের জন্য নির্ধারিত সেড তৈরি হয়নি । তারা থাকছে সংরক্ষিত এলাকায় । খোদ বেতার ভবনের দ্বিতীয় তলায় । যেখানে কর্মকর্তারা বসে অফিস করেন । তাদের অবাধ যাতায়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা হুমকির মুখে ।

পজেক্টের টাকায় এসি প্ল্যান্টের কাজ শেষ । ষ্টীল সীটের পরিবর্তে সাধারন সীট, ঢালাই পিলারের পরিবর্তে নিম্নমানের ইটের পিলার । বক্সে জং ধরেছে ইতিমধ্যে । তড়িঘড়ি করে শেষ হয়েছে লুটপাটের প্রথম কিস্তি ।
পজেক্টের কাজ শুরু হয়েছে সবে মাত্র । এরই মধ্যে প্রায় ৮ কোটি টাকা খরচের গুঞ্জন । লুটপাটের অভিনব সব নিদর্শন চলছে সিলেট বেতারে । আর এই লুটেপুটে খাওয়ার নেশায় মত্ত ম ম সিন্ডিকেট ।

বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক ফখরুল আলম । তিনি জানেন তার কেন্দ্রে কাজ হচ্ছে । তবে কোন বিষয়েই সঠিকভাবে অবহিত নন । এর পেছনে রয়েছে অন্য কারন । মনোয়ার খান খুবই বিষাক্ত । তার ছোবলে নীল হওয়ার শংকা আছে । ফখরুল আলম সিলেটেই থাকতে চান চাকুরির বাকি সময় । তাই ঘাটাতে চান না মনোয়ার খান কে ।

মনোয়ার খান কথাবার্তায় একজন সাধু পূরুষ । তার এই জনমে কোন অন্যায় করেন নি কোনদিন । কাজ পজেক্ট প্রোফাইল অনুযায়ীই হচ্ছে । উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে গাছ কেটেছেন । তবে বন বিভাগের তদন্ত কেনো ? নিরুত্তর মনোয়ার খান । ৫০ হাজার টাকা গাড়ী ভাড়া উপর মহলের জানা । তিনি শুধু ফাইল পত্রে সই করেন । যাবতীয় ফাইল তৈরি করেন উপ আঞ্চলিক প্রকৌশলী মেহেরাজ আহমদ । এই মেহেরাজও চাকুরি জীবনের প্রায় শেষ প্রান্তে ।

পিডি মুজিবুর আচরণে রীতিমত ফেরেস্থা ! গাছ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরশনে তিনি কাজ করছেন । তিনি মনে করেন এটা একটি ভুল বুঝাবুঝি । পরিবেশকর্মীরা না বুঝেই মানববন্ধন করেছেন । কাজ শুরু হতে না হতেই ৮ কোটি টাকা খরচ,এটা কিভাবে সম্ভব ? উত্তরে বললেন সবকিছু তো আর খুলে বলা যাবে না, আর্থিক বছর শেষ !

বেতারের মহাপরিচালক নারায়ন চন্দ্র শীল । চুক্তি জীবনের মাত্র কয়েকমাস বাকি । এই কয়েকমাসেই আখের গোছাতে ব্যস্ত ! ম ম সিন্ডিকেটের প্রধান উপদেষ্টা তিনি ! যদিও তিনি মনে করেন কোন অনিয়ম হচ্ছেনা । হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবেন । কিন্তু অনুসন্ধান বলছে ভিন্ন কথা । আগারগাঁও বেতার ভবনের চার দেয়াল সাক্ষি দিচ্ছে সকল অনিয়মের ।

Share Button

৭ responses to “অনিয়মের মূল হোতা প্রকৌশলী মনোয়ার খান”

  1. An outstanding share! I have just forwarded this onto a co-worker who had been conducting a little homework on this.
    And he actually bought me lunch because I found it for him…
    lol. So allow me to reword this…. Thanks for the meal!!
    But yeah, thanks for spending time to talk about this matter here on your website.

  2. Hi there, I log on to your blogs daily. Your humoristic style is awesome, keep
    it up!

  3. Unquestionably believe that which you stated.

    Your favorite justification seemed to be on the internet the easiest thing to be
    aware of. I say to you, I definitely get annoyed while
    people think about worries that they plainly do not know about.
    You managed to hit the nail upon the top and defined out the whole thing without having side effect , people could take a signal.
    Will probably be back to get more. Thanks

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ আপডেট

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. এম. শরীফুল আলম তুহিন
ইমেইল : expresstimes24@gmail.com
মোবাইল: ০১৭১২ ৭৪৭ ১৩৯ # ০১৯১৯ ৭৪৭ ১৩৯