,
সংবাদ শিরোনাম :
» « ইউএনও’র সামনে দুই সাংবাদিককে লাঠিপেটা করল পুলিশ!» « রাজশাহীতে করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ পরীক্ষা শুরু আগামী বুধবার থেকেই» « করোনা বিস্তার রোধে রাসিকের ১৯ নং ওয়ার্ড যুবদলের জীবাণুনাশক স্প্রে কার্যক্রম শুরু» « ‘দুঃখিত, কিছু মানুষকে মরতেই হবে’» « রাজশাহীতে করোনা সচেতনায় মাঠে পুলিশের স্পেশাল টিম» « পহেলা এপ্রিল থেকে রাজশাহীতে করোনা ভাইরাস শনাক্ত কার্যক্রম শুরু» « আইসল্যান্ডের গবেষণায় ভয়ঙ্কর তথ্য, অর্ধেকের বেশি মানুষ কোনো লক্ষণ ছাড়াই করোনায় আক্রান্ত!» « বগুড়ায় করোনা উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু, ১০ বাড়ি লকডাউন» « বাংলাদেশে প্রথম কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস মেশিন তৈরি» « ঘরে বসেই ১০ মিনিটে করোনা টেস্ট, তৈরি হচ্ছে কিট

কেমুসাসে জামায়াতি ভূতের আছর !

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ১৯৩৬ সালে জন্ম নেয়া ৮৩ বছরের কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ (কেমুসাস) এখন প্রতিক্রিয়াশীল,জঙ্গী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর অঘোষিত কার্যালয় হিসেবে ব্যাবহৃত হচ্ছে বলে জীবন সদস্যরা অভিযোগ করেছেন ।

 

দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন না হওয়া,একটি চিহ্নিত গোষ্ঠির কেমুসাসকে কুক্ষিগত করে রাখার প্রবনতা, নিজেদের নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠায় জামায়াতের ঘাড়ে সওয়ার হওয়া, ইত্যাদি কারনে কেমুসাস এখন জামায়াতের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে ।

 

অভিযোগ রয়েছে,নব্য গজিয়ে উঠা,মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী একটি শক্তি স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের সাথে আঁতাত করে, বারবার সুকৌশলে কেমুসাসের ক্ষমতা জামায়াতের হাতেই হস্তান্তর করছে ।

 

২০১৪ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে,নির্বাচনের দিন ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে এই চক্রটি আবারও আঁতাতের কমিটি করে জামায়াতের হাতেই নের্তৃত্ব তুলে দেয় । ২০১৬ সালে আবারও পাতানো নির্বাচন এবং একক প্যানেল ঘোষনা করে একই ব্যবস্থা ধরে রাখে সুবিধাবাদী চক্র । সর্বশেষ ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ’র কতিপয় নেতা,নির্বাচন কমিশন নির্বাচন বানচাল করে জামায়াত বিএনপি’র হাতে কেমুসাসের নের্তৃত্ব তুলে দেন ।

 

কেমুসাসের বর্তমান সাধারন সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা সিলেট মহানগর বিএনপি’র সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জাসাস’র সাবেক সাধারন সম্পাদক । তারই প্রত্যক্ষ মদদে এসব অপকর্ম বারবার সংগঠিত হচ্ছে । প্রায় ২ হাজার জীবন সদস্যের প্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করে মাহমুদ রাজার নের্তৃত্বেই কেমুসাস একটি মৌলবাদী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এমন অভিযোগও করেছেন জীবন সদস্যরা ।

 

অনিয়ম ও অগঠনতান্ত্রিকভাবে গঠিত ২৩ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যই জামায়াত ও বিএনপি অনুসারী । জামায়াতের অফিস সেক্রেটারী জাহেদুর রহমান, বায়তুল মাল সম্পাদক মাহবুব ফেরদৌস, রুকন সদস্য সৈয়দ মুহিবুর রহমান, হবিগঞ্জ ১ আসনের দাড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী ফজলুল করিম আজাদ, প্রকাশনা বিভাগের গুরু দায়িত্বে নিয়োজিত,জামায়াতের শিশু সংগঠন ফুলকুঁড়ি’র সংগঠক সেলিম আউয়াল, জামায়াত ঘড়ানার বুদ্ধিজীবি আব্দুল হামিদ মানিক, জামায়াতের দাতা সদস্য আফতাব চৌধুরী, বিএনপি নেতা আলী আহমদ,জাসাস নেতা আব্দুস সাদেক লিপনসহ প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের অনেকেই আছেন নির্বাহী কমিটিতে ।

 

মাহমুদ রাজা, সেলিম আউয়াল ও আব্দুস সাদেক লিপন সিন্ডিকেটের তত্ত্বাবধানেই কেমুসাসের সমুদয় কর্ম সম্পাদিত হয় বলে জানা গেছে । প্রতি বছর তাঁত ও বস্ত্র মেলাসহ বিভিন্ন মেলার নামে কেমুসাসের মাঠ ও বেজমেন্ট ভাড়া দিয়ে তহবিল তছরুপ’র অভিযোগও আছে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে । জীবন সদস্যরা বলেছেন প্রতি বছর সঠিক নিয়মে অডিট না হওয়ার কারনে বিভিন্ন খাতে অর্থ উত্তোলন হলেও, তার হিসেব ভাউচার এই সিন্ডিকেটের দখলে থাকায় পুকুরচুরি হচ্ছে । মাঠ ও বেজমেন্ট ভাড়া বাবত আয় বাদেও কেমুসাসের ভবন ভাড়া বাবত মাসিক আয় প্রায় দেড় লক্ষ টাকা ।

 

প্রশাসনের নজরদারীর ফলে সিলেটে জামায়াত অনেকটাই কোনটাসা । তাদের প্রকাশ্যে কর্মকান্ড নেই বললেই চলে । কিন্তু মাহমুদ রাজা সিন্ডিকেটকে হাতে রেখে জামায়াত এখন কেমুসাসকে তাদের গোপন রাজনীতির তীর্থক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে । তাদের গোপন মিটিং, গোপন তথ্য সরবরাহে নিরাপদে তারা কেমুসাসকেই কাজে লাগাচ্ছে । কেমুসাসের লাইব্রেরিতে মওদুদীর বই,গোলাম আযমের বই সহ অনেক বিতর্কিত বই সংরক্ষনে রাখা হয়েছে । লাইব্রেরি ও সাপ্তাহিক সাহিত্য আড্ডাকে কেন্দ্র করে মূলত ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে, এমন অভিযোগও রয়েছে ।

 

অভিযোগ সম্পর্কে দেওয়ান মাহমুদ রাজা কে প্রশ্ন করা হলে তিনি হু হা করে অনেক উত্তর এড়িয়ে যান । পাশাপাশি অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবী করেন । লাইব্রেরিতে মওদুদি ও গোলাম আজমের বই,এ প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি ।

 

সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি ও জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক এডভোকেট সরওয়ার আহমদ চৌধুরী মনে করেন কেমুসাসে একটি মৌলবাদী গন্ধ সবসময়ই আছে, তাদের অনেক কর্মকান্ড মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক । তাছাড়া আদর্শিকগত বিস্তর ফারাক, কেমুসাস কে এড়িয়ে চলার অন্যতম কারন ।

 

কেমুসাসের জীবন সদস্য ও সাংবাদিক শাব্বীর জালালাবাদী বলেন, কেমুসাস স্বাধীনতা বিরোধী একটি প্রতিষ্ঠান । মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের মৌলিকত্ব যেখানে উপেক্ষিত । একটি চক্র এই প্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করে জামাত কে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা করছে ।

 

সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট’র সভাপতি মিশফাক আমহদ মিশু কেমুসাস একটি মৌলবাদী প্রতিষ্ঠান,এ কথা উচ্চারন করে বলেন, আমাদের নাট্যচর্চা মৌলবাদের বিরুদ্ধে, স্বাধীনতা বিরোধীদের বিপক্ষে আমাদের নৈতিক অবস্থান । কাজেই সে অবস্থান থেকেই আমরা কেমুসাসকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি ।

 

জয়বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট’র প্রেসিডিয়াম মেম্বার প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, জামায়াতের সাথে এক কাতারে বসবো না, তাই কেমুসাসের বিগত পাতানো কমিটি থেকে আমি নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছি, যা সবাই জানেন, অতএব নতুন করে বলার কিছু নেই ।

 

শামসুল আলম সেলিম, কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট । আর্দশিক কারণেই কেমুসাসের সাথে কোন রখম সম্পর্ক রাখেন নি, তিনি মনে করেন,যেখানে আদর্শিক দ্বন্ধ,সেখানে দুরত্ব বজায়ই শ্রেয় ।

 

নামকরণের প্রতি তীব্র আপত্তি জানিয়ে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর জেলা সভাপতি এনায়েত হাসান মানিক বলেন, এই সংসদ প্রতিষ্ঠার পেছনে অনেক প্রগতিশীল ব্যক্তি জড়িত ছিলেন এমন কথা বলা হয় । কিন্তু সামগ্রিক কার্যক্রমে প্রতিক্রিয়াশীলতার ছাপ । তথাকথিতদের উদ্দেশ্য সফল করতে সিলেটের একটি বৃহৎ সাহিত্য সংসদ বারবার প্রতিক্রিয়াশীলদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, যা খুবই দুঃখজনক ।

Share Button

৭ responses to “কেমুসাসে জামায়াতি ভূতের আছর !”

  1. Like!! I blog quite often and I genuinely thank you for your information. The article has truly peaked my interest.

  2. I always spent my half an hour to read this weblog’s
    articles daily along with a mug of coffee.

  3. Wow that was unusual. I just wrote an very long comment but after I clicked
    submit my comment didn’t appear. Grrrr… well I’m not writing all that over
    again. Anyhow, just wanted to say excellent blog!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ আপডেট

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. এম. শরীফুল আলম তুহিন
ইমেইল : expresstimes24@gmail.com
মোবাইল: ০১৭১২ ৭৪৭ ১৩৯ # ০১৯১৯ ৭৪৭ ১৩৯