,
সংবাদ শিরোনাম :

পুষ্টিগুনে ভরপুর শিম,সাথে চাঁষীরা লাভবান হচ্ছে শিম চাঁষে

হেলালী খাতুন::শিম আমাদের দেশে একটি জনপ্রিয় সবজী। এখন প্রায় সারা বছরই আমাদের দেশে শিম পাওয়া যায়।

 

তবে সিজিনাল সবজী হিসেবে শিম শীতকালে প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায়।বাংলার ঘরে ঘরে শিম একটি জনপ্রিয় সবজী হিসেবে বেশ পরিচিত। শিমের ইংরেজি নাম been (বিন), বলা হয়ে থাকে।আমাদের দেশে শিম পছন্দ করেনা এমন পরিবার খুজে পাওয়া দুঃস্কর।শিম একটি প্রোটিন সমৃদ্ধ সবজী।ভাজী, ভর্তা, ঝোল প্রায় সব প্রকারেই খাওয়া যায় এ সবজী।এটি জমি ছাড়াও রাস্তার ধারে, জমির আলে,ঘরের চালে,গাছেও ফলানো যায়।দোয়াশ ও বেলে মাটি শিম চাষের জন্য উপযুক্ত।আষাড়-ভাদ্র মাস বীজ বোনার উপযুক্ত সময়।সারিতে বোনা হলে ৪-৫ টি দিতে হয়।

 

হেক্টর প্রতি ১৫ কেজি হলেই হবে।আর মাদায় বোনা হলে ৪-৫ টি দিতে হয় হেক্টর প্রতি ১০ হলেই যথেষ্ট।আশ্বিন- কার্তিক মাসে ফুল হয়,ফুল ফোটার ১৫-২০ দিন পর থেকেই শিম সংগ্রহ করা যায়। বারমাসি শিম জৈষ্ঠ /আষাড়ে বীজ বপন করে আগাম ফসল চড়া দামে বিক্রয় করা যায়।বারি ঝাড়শিম-১ এর বীজ বোনার উপযুক্ত সময় হলো মধ্য কার্তিক থেকে মধ্য- পৌষ(নভেম্বর থেকে জানুয়ারি)।আমাদের দেশে ৫০ টির ও বেশি স্থানীয় শিমের জাত আছেঃ-বাংলাদেশে প্রায় সব এলাকাতেই শিমের চাঁষ হয়।প্রতি ১০০ গ্রাম শিমে ৮৬ দশমিক ১ গ্রাম জলীয় অংশ আছে।এতে খনিজ উপাদান রয়েছে ০ দশমিক ৯ গ্রাম, আঁশ ১ দশমিক ৮ গ্রাম,ক্যালরী বা খাদ্য শক্তি রয়েছে ৪৮ কিলো ক্যালরী।এছাড়াও শিমে রয়েছে ৩ দশমিক ৮ গ্রাম প্রোটিন, ৬ দশমিক ৭ গ্রাম শর্করা, ২১০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম,ও ১ দশমিক ৭ গ্রাম লৌহ।এসব উপাদান ছাড়াও শিমে জিঙ্ক,ভিটামিন সি ও নানা রকম খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ।

 


শিমের রয়েছে বিভিন্ন উপকারিতাঃ- শিমে সিলিকন জাতীয় উপাদান থাকে যা হাড় সুগঠিৎ করে।কোলেষ্টরলের মাত্রা কমায় ও শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রে সাহার্য করে এ শিম।নিয়মিত শিম খেলে হৃদরোগের ঝুকি অনেকটাই কমে যায়।গর্ভবতী মা ও শিশুর অপুষ্টি দুর করতে শিম বেশ উপকারী।চুল পড়া কমাতে,চুলের সাস্থ্য ভালো রাখা,কোষ্ঠ-কাঠিন্য দূর,ক্লোন ক্যনসার প্রতিরোধ, তকের আদ্রতা ধরে রাখতেও সাহায্য করে এ শিম।এতো গেল শিমের উপকারিতা।

 


শিমের যেমন উপকারী দিক রয়েছে, তেমন রয়েছে এর ক্ষতিকারক দিকওঃ-শিমে রয়েছে সামান্য পরিমানে ক্ষতিকারক সায়ানোজেনিক গ্লুকোসাইড।শুকনো শিমে এ উপাদানের পরিমান অপেক্ষাকৃত বেশি।অনেকেই শিমের বিচি আলাদা করে রান্না করে খেতে পছন্দ করে,সেক্ষেত্রে শিমের শুকনো বিচি রান্না করার সময় অবশ্যই একবার পানি পরিবর্তন করে নেয়া উচিত।এছাড়াও পুষ্টি সমৃদ্ধ হলেও বেশি পরিমান শিম খাওয়া কখোনোই উচিত নয়।কেননা অধিক পরিমান শিম খেলে অনেক সময় বমি বমি ভাব হতে পারে।

 


শুধু শিমই নয়, শিমের বিচিতেও রয়েছে অনেক উপকারিতাঃ- শিমের বিচি প্রথম উতপাদন হয় পেরুতে।আজ থেকে প্রায় হাজার বছর আগে।পরে তা দক্ষিণ আমেরিকার প্রধান খাদ্য সামগ্রিতে পরিনত হয়।এর পর আস্তে আস্তে এশিয়া মহাদেশে ছড়ীয়ে পড়ে।কালো শিমের বিচি উচ্চ ফাইবার, প্রোটিন, এ্যান্টী অক্সিডেন্ট ,ভিটামিন এবং মিনারেল সমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর খাবার।সাদা ভাতের সাথে মিশ্রিত করা কালো শিমের বিচি পুরোপুরি প্রোটিন সমৃদ্ধ একটি খাবার হয়ে উঠে।যারা বেশি সবজী খেতে পছন্দ করেন না তারা ভিটামিনের চাহিদা মেটাতে এই খাবারটি খেতে পারেন।আমিষের ঘাটতি হলে শিম ও শিমের বিচি খেলে তা পুরন হয়।শুক্রগত দূর্বলতায় শিমের বিচির বেসন খেলে তা দূর হয়।

 

স্তন্যবর্ধন:প্রসুতিকে শিম ও শিমের বীজ খাওয়ালে দুধ বাড়ে।প্রচুর পরিমানে প্রোটিন এবং ফাইবারযুক্ত কালো শিমের বিচি হজমে ডহাশতার মাধ্যমে পরিপাক নালির উপকার করে।এছাড়াও দেহের বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের মাত্র নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।এছাড়াও পুষ্টি গুনে ভরা (শিম) এ সবজীটি লাভজনক হওয়াই আমাদের দেশের চাঁষীরা শিম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে,এবং শিম চাঁষ করে তা স্থানীয় মানুষের চাহিদা পুরনের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।শুধু তাই নয়,আমাদের গ্রামঅঞ্চলের মেয়েরাও বাড়ীর আনাচে কানাচে ফাকা জায়গায় শিম গাছ লাগিয়ে নিজেদের পরিবারের ও পতিবেশিদের পুষ্টি চাহিদা পুরনের পাশাপাশি অতিরিক্ত শিম বাজারে বিক্রয় করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।বিষেশ করে উত্তর অঞ্চলের চাঁষীরা।

Share Button

One response to “পুষ্টিগুনে ভরপুর শিম,সাথে চাঁষীরা লাভবান হচ্ছে শিম চাঁষে”

  1. As I site possessor I believe the content material here is rattling excellent , appreciate it for your hard work. You should keep it up forever! Good Luck.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ আপডেট

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. এম. শরীফুল আলম তুহিন
ইমেইল : expresstimes24@gmail.com
মোবাইল: ০১৭১২ ৭৪৭ ১৩৯ # ০১৯১৯ ৭৪৭ ১৩৯