,
সংবাদ শিরোনাম :
» « কোন দখলবাজ কালীগঞ্জ শহরে থাকতে পারবে না —পৌর মেয়র» « সাইফুরকে বহিস্কার করলো সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব» « বিয়ের আগে যৌন মিলন করলে কী হয়?» « পূবালী ব্যাংকের ২২ লাখ টাকা ডাকাতি : আ.লীগ-জাতীয় পার্টির নেতাসহ ১৬ আসামির দণ্ড» « মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কামাল-ফখরুলের দুই ঘণ্টার বৈঠক» « নবীগঞ্জে দাঙ্গার উস্কানি ও জুয়া খেলার দায়ে স্বামী-স্ত্রীর কারাদণ্ড» « ভারত থেকে আসা মেয়াদোত্তীর্ণ মহিষের মাংস সুপারশপে বিক্রি : ৩২ লাখ টাকা জরিমানা» « সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছেন কয়েক হাজার দেশি-বিদেশী পর্যটক» « ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনঃ যারা ভোটার নন, তাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ» « কুমিল্লায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড

কেমুসাস নির্বাচন : একক প্যানেল, জামাতিদের নতুন ফাঁদ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন সাহিত্য সংগঠন সিলেট ‘কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ’ (কেমুসাস)। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন এই সাহিত্য সংগঠনটিকে ঘিরে সকল সদস্যদের মধ্যে গভির ক্ষোভ জন্ম নিয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে এই প্রতিষ্ঠানটিতে নিজেদের কর্তৃত্ব ধরে রাখে জামাত-শিবির। ফলে কেমুসাসে জামাত-শিবির নেতাকর্মীদের আনাগোনা ছিলো নির্বিঘ্নে। এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চলতি নির্বাচন নিয়েও নতুন চক্রান্তে মেতে উঠেছে এই চক্র। এমন অভিযোগ জানিয়ে চলতি নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেক প্রার্থী এবং ভোটাররা খেদোক্তি প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির উপর। তাদের অভিযোগ-এই প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠার পেছনে প্রগতিশীল এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি সরাসরি যুক্ত থাকলেও কৌশলে জামাত শিবির চক্র প্রতিষ্টানটিকে আজ নিজেদের ব্যক্তিগত কার্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছে।

জানা যায়, সিলেট কেন্দ্রিয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, ২ ডিসেম্বর থেকে মনোনয়ন ফরম বিতরণ, ৪ ডিসেম্বর মনোনয়ন জমাদান এবং ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেকেই ফরম সংগ্রহ করে কেমুসাস বরাবরে নির্ধারিত পে-অর্ডার করেন। কিন্তু ৪ ডিসেম্বর মনোনয়ন জমাদানকালে শুরু হয় নতুন নাটকীয়তা। এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যখ্যা চাইলে নির্বাচন কমিশনার শফিউল আলম নাদেল প্রার্থীদের বাড়িতে ফরম পাঠিয়ে দিবেন বলে আশ্বস্থ করেন।

নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের এই তথ্য জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশি প্রবীন সাংবাদিক এবং তুখোর ছড়াকার শাব্বির জালালাবাদি বলেন, মূলত দীর্ঘদিন থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে জামাতিকরনের চেষ্টা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় জামাতি সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও মূলত কেমুসাসে বসেই নির্বিঘ্নে এই চক্র রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত করতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভোটার বলেন, জামায়াতের রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত অনেকেই এখন কেমুসাসের কার্যকরী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস নেই কারো।

জানাগেছে, কেমুসাসের কার্যকরী সদস্য জাহেদুর রহমান চৌধুরী জামাতের অফিস সেক্রেটারি, কার্যকরী সদস্য মাহবুব ফেরদৌস বায়তুলমাল সম্পাদক,ফজলুল করিম আজাদ হবিগঞ্জ-১ আসন থেকে জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, ছয়ফুল করিম হায়াত জামায়াতের শিক্ষা বিভাগ সদস্য, মোহিত চৌধুরী,সেলিম আওয়াল সহ অনেকেই জামাত ঘরানার লোক বলে দীর্ঘদিন থেকেই পরিচিত।

এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার শফিউল আলম নাদেল বলেন, কারো মনোনয়র ফরম বাড়িতে পাঠানোর কথা নয়। সমঝোতার মাধ্যমে এককভাবে একটি প্যানেল সম্মিলিতভাবে দেওয়ায় চেষ্টা চলছে। তাই পৃথকভাবে কারো মনোনয়ন ফরম গ্রহণের সুযোগ নেই। কার্যকরি কমিটির অনেকেই জামাত রাজনীতির সাথে যুক্ত-এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, কে কোন রাজনীতি করেন, সেটি একান্তই তাদের রাজনীতির বিষয়। কেমুসাস শুধু সাহিত্য সংস্কৃতিতে জড়িতরাই যুক্ত হন এবং সেই বিবেচনায় কার্যকরি পরিষদের দায়িত্বশীল পদে মনোনীত হন।

একক প্যানেল দেওয়ায় প্রয়াসকে অগতান্ত্রিক উল্লেখ করে সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়র প্রত্যাশী বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত¦ প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এই সিদ্ধান্ত পুরোটাই পরিকল্পিত। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে সকলের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই একটি কার্যকরী কমিটি এখন সকল ভোটারের দাবি। এই দাবিকে অবজ্ঞা করার মানে হলো, সকল ভোটারদের ভোটাধিকার হরণ করা। যার ফল ভালো কিছুর ইঙ্গিত বহন করেনা।

আজীবন সদস্য ও সাবেক কাউন্সিলর আজহার উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, “কেমুসাস প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আমার দাদা শেখ সিকান্দর আলী জড়িত ছিলেন। পরে এর সাথে আমার পিতা সাবেক পৌর কমিশনার ইর্শাদ আলী কেমুসাসে যুক্ত হন। নির্বাচন কমিশন তড়িগড়ি করে একটি পক্ষকে ক্ষমতায় বসাতে এমন অনৈতিক প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে লোকোচুরি কখনই মেনো নেবোনা। পে-অর্ডার করেছি মনোনয়ন কেনার জন্য। মনোনয়ন জমা নিয়ে প্রকাশ্যে নির্বাচন না হলে আমরা বিকল্প কর্মসূচি গ্রহন করতে বাধ্য হবো ।”

Share Button

One response to “কেমুসাস নির্বাচন : একক প্যানেল, জামাতিদের নতুন ফাঁদ”

  1. I am very happy to read this. This is the type of manual that needs to be given and not the accidental misinformation that’s at the other blogs. Appreciate your sharing this greatest doc.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ আপডেট

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. এম. শরীফুল আলম তুহিন
ইমেইল : expresstimes24@gmail.com
মোবাইল: ০১৭১২ ৭৪৭ ১৩৯ # ০১৯১৯ ৭৪৭ ১৩৯