,
সংবাদ শিরোনাম :

ভর্তি বানিজ্যে নিমূলে নির্বাচনী ইশতেহারে অঙ্গীকার দাবি

সরকারি যথাযথ কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় দেশব্যাপী ভর্তি বানিজ্য থেমে নেই, শ্রেণি শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট না পড়লে টেস্ট পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হতে পারছে না, ভর্তি বানিজ্যে নিমূলে নির্বাচনী ইশতেহারে অঙ্গীকার দাবি

শম্পা কে নাহার, চট্টগ্রাম :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনদরদী সকল প্রাথীরা এখন মাঠে-ময়দানে জনগনের জন্য কাজ করতে হাজারো প্রতিশ্রুতি প্রদানে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আর গণমাধ্যম কর্মীরাও সে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারে ব্যস্ত। কিন্তু মানুষের নিত্যদিনের সমস্যা সমাধানে তাৎক্ষনিক প্রতিকার ভোটের পরে আর পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষের তেমনি একটি সমস্যা ভর্তি ও কোচিং বানিজ্য এবং নামে বেনামে বিভিন্ন ফিস আদায়ের মহোৎসব। চট্টগ্রামে ২০১৬ সালে ক্যাব বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে ভর্তি বানিজ্যে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানসমুহের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিসকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন, অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দানে সফল হলেও বছর যেতে না যেতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন বছরে ভর্তিতে ঘুরে ফিরে আবারও সেই ভর্তি বানিজ্য ও অতিরিক্ত ফিস আদায়ের মহড়া, লটারীতে ভর্তির নামে গোপনে লটারী দেখিয়ে পছন্দসই শির্ক্ষার্থী ভর্তি করানো, এসএসসি ও এইসএসসিতে শ্রেণী শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট না পড়লে টেস্ট (নির্বাচনী) পরীক্ষায় অকৃতকার্য করাসহ নানা ভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মহোৎসব শুরু হয়েছে।

 

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অযুহাতে জেলা প্রশাসন, শিক্ষা বোর্ড ও জেলা শিক্ষা অফিসের নজরদারি ও তদারকির অভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি আবারও নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছে। এমতাবস্থায় ভর্তিতে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নামে বেনামে অতিরক্তি ফিস আদায় বন্ধ করা, প্রাথমিক স্তরে ভর্তিতে লটারী হলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রে ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে লটারী অনুষ্ঠান, এসএসসি ও এইসএসসিতে শ্রেণী শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট না পড়লে টেস্ট (নির্বাচনী) পরীক্ষায় অকৃতকার্য করে নানা ভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাথীদের ইশতেহারে ভর্তি ও কোচিং বানিজ্য নিমূলে অঙ্গীকার দাবি জাানিয়েছেন দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম। নতুন বছরের শুরুতে ভর্তি যুদ্ধের প্রাক্কালে শিক্ষা মন্ত্রনালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তর, শিক্ষা বোর্ড, জেলা প্রশাসন, জেলা শিক্ষা অফিসের তদারকিতে নিরবতায় এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।

 

বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন সম্প্রতি ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী অরিত্রিকে আত্মহণণে বাধ্য করার পেছনে মূল কারন ছিলো ভর্তি বানিজ্য ও অভিভাবকদের সাথে স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে অনিয়মিত সংলাপ। ক্যাব চট্টগ্রাম ২০১৬ সাল থেকে চট্টগ্রামে ভর্তি বানিজ্যের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাকালে একাধিকবার শিক্ষা মন্ত্রনালয়, শিক্ষা বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বারবার স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে অভিভাবকদের সাথে সক্রিয় ও নিয়মিত মতবিনিয়ের উপর অধিকগুরুত্ব প্রদান, নিয়মিত অভিভাবক সভা আয়োজন, ভর্তি বানিজ্য, অতিরিক্ত ফিস, উন্নয়ন ফিস আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়ম রোধে সংস্লিষ্ঠ প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি ও নজরদারি না করে “অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে” এ ধরনের বক্তব্যের কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে ফিস আদায়, কোচিং বানিজ্যসহ নানা অনিয়মে জড়িত হলেও শিক্ষা প্রশাসন, মন্ত্রনালয় আজ পর্যন্ত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি অনিয়মের কারখানায় পরিনত হয়েছে। যার সর্বশেষ বলি হলেন অরিত্রি অধিকারী। যেখানে শিক্ষার চেয়ে বানিজ্যই মূখ্য হয়ে দাড়িয়েছে। আর এগুলো তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিতরা দিবাস্বপ্নে বিভোর।

 

ক্যাব নেতৃবৃন্দ আরও বলেন সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলে চালের আড়ত, মাছের আড়ত, রিয়েলস্টেট, গার্মেন্টস ও অন্যান্য ব্যবসার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে শিক্ষা ব্যবসা নেমে পড়েছে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী। আর তারা এসমস্ত শিক্ষা দোকান খুলে ভর্তিতে সরকারী নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে গলাকাটা ফিস আদায়, উন্নয়ন ফিস, ল্যাব ফিস, টিসির নামে পুরো বছরের ফিস আদায়সহ নানা নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় করছে। আবার মধ্য সাময়িক পরীক্ষায় অনুপস্থিতি জরিমানাসহ নামে বেনামে পরীক্ষার প্রবেশ পত্র সংগ্রহ করার সময় বিভিন্ন ফিস আদায় করছে। প্রশাসন এসমস্ত অনিয়ম দেখেও না দেখার ভান করে থাকেন। এছাড়াও বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি শিক্ষার্থীদের বেতন ও ফিসের উপর নির্ভর করে পরিচালনা করলেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে অকার্যকর যোগাযোগ, অনিয়মিত অভিভাবক সভা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে সাক্ষাত দুরহ ব্যাপার। অন্যদিকে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পরিচালনা পর্ষদে অভিভাবকদের সত্যিকারের অংশগ্রহন যাচাই না করে শিক্ষা বোর্ড পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন করছে যার কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অভিভাবকদের অংশগ্রহন নিশ্চিত হচ্ছে না।

 

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, প্রমুখ।

Share Button

২ responses to “ভর্তি বানিজ্যে নিমূলে নির্বাচনী ইশতেহারে অঙ্গীকার দাবি”

  1. oprolevorter says:

    I have been surfing online more than three hours today, yet I never discovered any fascinating article like yours. It’s beautiful worth enough for me. In my view, if all website owners and bloggers made just right content material as you did, the net can be much more helpful than ever before. “I finally realized that being grateful to my body was key to giving more love to myself.” by Oprah Winfrey.

  2. Hey very nice site!! Man .. Excellent .. Amazing .. I’ll bookmark your web site and take the feeds also…I’m happy to find a lot of useful information here in the post, we need develop more techniques in this regard, thanks for sharing. . . . . .

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ আপডেট

সম্পাদক ও প্রকাশক : এম. এম. শরীফুল আলম তুহিন
ইমেইল : expresstimes24@gmail.com
মোবাইল: ০১৭১২ ৭৪৭ ১৩৯ # ০১৯১৯ ৭৪৭ ১৩৯