,
সংবাদ শিরোনাম :
» « কোন দখলবাজ কালীগঞ্জ শহরে থাকতে পারবে না —পৌর মেয়র» « সাইফুরকে বহিস্কার করলো সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব» « বিয়ের আগে যৌন মিলন করলে কী হয়?» « পূবালী ব্যাংকের ২২ লাখ টাকা ডাকাতি : আ.লীগ-জাতীয় পার্টির নেতাসহ ১৬ আসামির দণ্ড» « মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কামাল-ফখরুলের দুই ঘণ্টার বৈঠক» « নবীগঞ্জে দাঙ্গার উস্কানি ও জুয়া খেলার দায়ে স্বামী-স্ত্রীর কারাদণ্ড» « ভারত থেকে আসা মেয়াদোত্তীর্ণ মহিষের মাংস সুপারশপে বিক্রি : ৩২ লাখ টাকা জরিমানা» « সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছেন কয়েক হাজার দেশি-বিদেশী পর্যটক» « ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনঃ যারা ভোটার নন, তাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ» « কুমিল্লায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড

মেঘবালিকা ও ঢুস কাব্যগ্রন্থ থেকে কাব্যালোচনা- নাসিম আহমদ লস্কর

মেঘবালিকা: কবিতায় জীবন

বাস্তবতা আর স্বপ্নের মিথস্ক্রিয়ার ফলে জন্ম হয় সাহিত্যের। জীবন জগৎ নিয়ে গভীর ভাবনা স্থান পায় সাহিত্যে। কবিরা ভাবনার পিরামিডে গড়ে তুলেন কবিতার মিনার। সন্ধ্যাপ্রদীপ যেমন জগতের দর্পণে মিটিমিটি করে জ¦লে মানবজীবন প্রণালিও কবির ভাবনায় মিটিমিটি করে ঘুরপাক খায়। আর এই ভাবনা থেকে জন্ম হয় কবিতার।

 

কবি শাহ কামাল আহমদ একজন আপাদমস্তক কবিতার ফেরিওয়ালা। প্রবাস জীবনের ব্যস্ততম সময়ের মধ্যেও তিনি অবিরত রচনা করে চলছেন কবিতার ভান্ডার। তাঁর মনে ও মননে ভাবনার নুড়ি আর নুড়ি। জীবন ও জগৎ সম্পর্কিত সেই সূক্ষ্ম ভাবনাগুলোকে তিনি সাজিয়েছেন কবিতার নিবেশে।

 

অমর ২১ শে বইমেলা ২০১৮ তে সিলেটের ‘পায়রা প্রকাশ’ থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর কবিতাগ্রন্থ ‘মেঘবালিকা’। প্রকাশক: সিদ্দিক আহমদ। বইটির বেশিরভাগ কবিতায় স্থান পেযেছে মোহময় জীবনের কথা। ৬৪ পৃষ্ঠার এ বইটিতে স্থান পেয়েছে মোট ৫৪টি কবিতা। এ নিবন্ধটিতে কিছু কবিতা নিয়ে সংক্ষিপ্ত পরিসরে আলোচনা করা হলো।

 

বাহ্যিক গঠনের মানুষ আর মানব মনের অধিকারী মানুষের মধ্যে রয়েছে বিস্তর তফাৎ। জৈবিক দিক থেকে মানুষ আর পশুর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। তবে মানুষের ভিতরে রয়েছে ‘মন’ নামক অনন্য এক সত্তা। আর এই সত্তােেক যে যত পবিত্র কাজে লাগাতে পারে সে ততই সুনিপুণ চরিত্রের অধিকারী হয়ে উঠে। ‘মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন’ই হচ্ছে বিশ্বমানবতার মূলকথা। কবির ভাবনায়ও তাই ফুটে উঠেছে।

 

‘আমি মানুষ হতে চাই
মানুষের মতো
—-খুব বেশি বড় হতে চাইনা
চাই সুন্দর একজন মানুষ হতে।
‘আমি মানুষ হতে চাই’

 

মানবজীবন স্রষ্টার সুনিপুণ হাতে গড়া এক নাট্যমঞ্চ। পার্থিব জীবনের ফাঁদে পড়ে আমরা ক্রমেই ভুলে যাই স্রষ্টার কথা। সচেতন কবিমনে এ বিষয়টি সূক্ষ্ম ভাবে ধরা পড়েছে।

 

‘জীবন আসলে এক মিথ্যা নাটকের মঞ্চ
কিন্তু আমরা ভুলে যাই আমাদের সৃষ্টিকর্তার কথা
যিনি এত সুন্দর আয়োজন করে
আমাদের পাঠিয়েছেন।’
‘নাটকের মঞ্চ’

 

প্রতিটি মানুষের রয়েছে অনন্য বিবেক। বিবেক মানুষকে সুপথে কিংবা কুপথে পরিচালিত করে। আমরা দুনিয়ার ভ্রমে পড়ে পরজনমের কথা ভুলতে বসিযা যা কবিকে আহত করেছে। তিনি আহবান জানান মানবকুলকে স্রষ্টার তৈরী সুপথে আসার জন্য।

 

‘আসুন আমাদের ঘুমন্ত বিবেক জাগ্রত করি
দুনিয়া এবং আখেরাত আল্লাহর তৈরী
জান্নাতের জন্য কাজ করি।’
‘আহবান’

 

প্রিয়জনকে হারিয়ে মানুষের বোধ লোপ পায়। মানুষের মধ্যে উদ্ভট, অদ্ভুত পরিবর্তন আসে। যাপিত জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা থেকে কবি এ সত্য উপলব্ধি করেছেন।

 

‘কেউ হারিয়ে গেলে হয়তো
তাঁকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব
কিন্তু কেউ বদলে গেলে তাঁকে
আগের মত ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।’
‘বদলে গেলে’

 

কবিদের মনে সবসময় শব্দের জোয়ার খেলা করে। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে সবাই যখন নিদ্রাদেবীর কোলে শুয়ে পড়ে কবিরা তখন ক্লান্তিহীনভাবে রচনা করেন কবিতা। খেলা করেন শব্দ নিয়ে।

 

‘দিনান্তের ক্লান্তি শেষে
সুখের পাযরা উড়ে
সকল পাখি নীড়ে ফিরে
সাঁঝের বেলা।

 

নীল আকাশে তারা উঠে
কত শত কাজের ফাঁকে
আমি কলম নিয়ে করি শুধু খেলা।’
‘ক্লান্তি শেষে’

 

বইটিতে জবিন ও জগতের বাস্তবতা সুনিপুণভাবে কলমের শৈল্পিক আঁচড়ে ফুটে উঠেছে। বাস্তব জীবনবোধ থেকে কবি রচনা করেছেন এ কবিতা সম্ভার। আমি আশা করি বইটি পাঠকসমাজে গ্রহণযোগ্য স্থান দখল করবে।

 

বাস্তবতার ঘ্রাণ ‘ঢুস’

সৃষ্টির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিনিয়ত ঘটে যাচ্ছে বিচিত্র ঘটনা। এসব ঘটনা সকল মানুষই প্রত্যক্ষ করে। প্রত্যক্ষণের পর মানুষ বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষণ করে। তারপর কেউ কেউ এসব ঘটনার আলোকে রচনা করে কবিতা, গল্প, কবিতা, উপন্যাস কিংবা অন্যকিছু। কবিমন সব সময় ভাবুক। ভাবনার সাগরে ডুবন্ত থাকে তাঁদের মন। ভাবুক মন বিশ্লেষণের একপর্য়ায়ে ডুবন্ত ভাবনাকে ভাসিয়ে তুলেন কবিতার মাধ্যমে।

 

কবি সৈয়দ রোকন উদ্দিন এমনই একজন ভাবুক। মানবজীবনে যা কিছু ঘটে যায় সেগুলোর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করে তিনি রচনা করেন কবিতা। কবিতার পাশাপাশি তিনি লিখে থাকেন উপন্যাস, কবিতা ও গল্প। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৯। অমর একুশে বইমেলা ২০১৮ তে সিলেটের ‘পায়রা’ প্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ ‘ঢুস’। প্রকাশক -সিদ্দিক আহমদ। বইটি ইতিমধ্যে পাঠক সমাজে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। ৬৪ পৃষ্ঠার এ বইটিতে স্থান পেয়েছে মোট ৫৪ টি কবিতা। কবিতাগুলোর বেশিরভাগই স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ও লিমেরিক ছন্দে রচিত। পুরো বইটি পাঠ করলে বুঝা যায় কবি ছন্দ বিষয়ে বেশ সিদ্ধহস্ত। এখানে বইটির কিছু কবিতা নিয়ে আলোচনা করা হলো।

 

কবির রচিত ‘চিটকা চিটকা গন্ধ’ কবিতাটি ব্যাক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ তাঁর ব্যাক্তিগত বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে যে কাজটি করে থাকে তাই তাঁর জীবনে কল্যাণ বয়ে আনে। তেমনি, যে জাতি নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে দেশের জন্য কাজ করে সে জাতি তত তাড়াতাড়ি উন্নতি লাভ করে।

 

‘ডেবিড নামের বন্ধু ব্রিটিশ, থাকতো সে ক্যানবেরা
নিজেকে সে ভাবত উঁচু, জাতে কুলীন, সেরা।
ইচ্ছে ছিল, আচ্ছামত, লজ্জা দেব তাকে

………………………………………

বলেছিলাম: ‘তোমরা ব্রিটিশ, লেজ গুটালে ঠিকই
‘জিল্পি -প্যাঁচে রেখে গেলে, দ্বন্দের শত দিকই।
তোমার বিধান এই মাটিতে, খাচ্ছেনা যে খাপ-রে

…………………………………………..

ব্রিটিশ বলে:… … …
ব্রিটিশ গেল সেই যে কবে, তোমরা কেন ঘুমাও?
সাতটা দশক পরেও কেন, ব্রিটিশ আইন চুমাও?’

 

অর্থ যেমন মানুষের জন্য আশীর্বাদ, তেমনি অভিশাপ। জীবনযাপনের জন্য পর্যাপ্ত অর্থের প্রয়োজন। তবে অতিরিক্ত অর্থও ভালো নয়। অর্থের গরিমায় অনেক সময় মানুষের হিতাহিত বোধ থাকেনা। ফলে, সে যেকোন অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতে পারে। জীবন সচেতন কবি এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন তাঁর ‘টাকাসমাচার’ কবিতায়।

 

‘থাকলে টাকা করতে পার, পেশির বাড়াবাড়ি -ও
ঘরে বসেই সারতে পার, মাঠের মারামারি -ও
নড়তে পারে তোমার ফাইল, ভীষণ তাড়াতাড়ি -ও
হতেও পারে তোমার সাথে, দেশের ছাড়াছাড়ি -ও।’

 

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। কিন্তু মানুষ যখন তাঁর নৈতিক মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলে তখন সে হয়ে উঠে বনের পশুর চেয়েও অধম। ইভটিজিং হচ্ছে একটি প্রকট সামাজিক সমস্যা যার নেতিবাচক প্রভাবে মেয়েরা নিরাপদে স্কুল-কলেজে যেতে পারেনা। বীভৎস এ বিষয়টি কবি তাঁর ‘বখাটে’ কবিতায় তুলে ধরেছেন।

 

‘কিশোরী এক ফরসা মেয়ে
একাই সেদিন যাচ্ছিল
কুকুর ছিল গোটা ছ’য়েক
তাই দেখে ভয় পাচ্ছিল!

 

কুকুর বলে,‘……
আমরা কুকুর, মানুষ নহি
কাজেই ভয়ের কারণ নাই’

 

পাশেই ছিল, এক বখাটে
চামচাকে ডাক, দিয়ে বলে
‘তাড়া কুকুর, ঝাঁটা ল’।’

 

কুকুর বলে, ‘লাভ কী তাতে,
কুকুর-মেকুর বর্জনে?
তারচে’ বরং, আয় কাছে আয়,
মনুষ্যত্ব কর্জ নে।’

 

মুসলিম ধর্মীয় সম্প্রদায়ের একটি বড় উৎসব হচ্ছে কোরবানীর ঈদ৷ এই ঈদে মানুষ গরু, ছাগল, উট কিংবা দুম্বা কোরবানী করে৷ আল্লাহতা’আলা বৱেছেন, প্রতিটি মানুষকে সাধ্য থাকলে কেবল আল্লাহর নাম উৎসর্গ করে হালাল উপার্জন দিয়ে কোরবানী করতে হবে৷ আমাদের সমাজে কিছু লোক আছে যারা সারা বছর অবৈধ টাকার পাহাড় জমায়; কোরবানীর ঈদে জবাই করে দামী দামী পশু।  অথচ আল্লাহ এগুলো সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছেন৷ এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন কবি তাঁর ‘কোরবানী’ কবিতায়৷

 

‘————উটের গলা আকাশচুমী
তাই কিনে খুব গর্বে তুমি
—-হাসছো কুটকুট৷
পুণ্য তোমার পোকায় খাবে
যদি তোমার মনের পশু না কর করতল৷’

 

অতীত স্মৃতি সবসময় মানুষকে তাড়ায়৷ মানুষ ফিরে যেতে চায় তাঁর পুরনো সুখময় অতীতে৷ কবিও ফিরে যেতে চান তাঁর স্মৃতিমাখা অতীতে৷ সুখময় অতীত হারিয়ে যাওয়ার আক্ষেপ ফুটে উঠেছে তাঁর ‘কোথায় গেল’ কবিতায়৷

 

‘কোথায় গেল ক্যাঁকুর ক্যাঁকুর পালকিচড়া বউ?
কোথায় গেল দিঘল মাঠের, সর্ষে ফুলের মৌ?
——- কোথায় গেল গাঁ ঘেষা ঐ, খোয়াইন নদীর বাঁক
কোথায় গেল বৃক্ষ ছায়া, আর বলিনা থাক৷’

 

আমাদের সমাজ ব্যবস্থা লুটতরাজ আর রাহাজানিতে ভরে গেছে৷ দেখা যায় যে, সমাজের নিচু শ্রেণির লোকেরা সামান্য কিছু চুরি করলেই তাঁদেরকে মহাশাস্তির সম্মুখীন হয়৷ অথচ, রাগববোয়াল শ্রেণির লোকেরা গরীব লোকদের সম্পত্তি আত্মসাৎ করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলে। এসব অপকর্মের প্রতিবাদ কেউ কখনো করেনা। এ বিষয়গুলো কবিকে করেছে আহত যা ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি তাঁর ‘লিক ও পাবলিক’ কবিতায়৷

 

‘পাবলিক পাবলিক
টাকা রেখে ট্যাঙ্কে
সেইখানে চোখমারে
যারা উঁচু র‌্যাংকে৷’

 

জন্মভূমিতে প্রতিটি মানুষের অধিকার সমান৷ ধর্মীয় ইস্যু অধিকার বিষয়ে কোন ভেদাভেদ সৃষ্টি করতে পারেনা৷ কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনো সংখ্যালঘু লোকদের নির্যাতন করা হয়৷ এসব বৈষম্য কবির হৃদয়কে চূর্ণবিচূর্ণ করেছে৷ বিষয়টি ফুটে উঠেছে ‘অধিকার’ কবিতায়৷

 

‘যে মাটিতে জন্মেছে সে
সেই মাটিটা তাঁরই
—–মাটির সাথে ধর্মইস্যু
এক্কেবারেই গৌণ’

 

‘ঢুস’ কবিতাটি গ্রন্থটির নাম কবিতা৷ এখানে কবি তাঁদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন যারা বিশাল সম্পত্তির অধিকারী হয়েও বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে৷ কবিতাটিতে আরো অনেক উদাহরণ টেনে এনেছেন কবি এবং কবি পাঠক সমাজকে আহ্বান করেছেন এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার জন্য৷

 

‘ঢুস দে রে তুই তাকে
কাকে?
যে ছেলেটার ডিগ্রি ঠাসা
বনানিতে বিশাল বাসা
তারপরও যার বৃদ্ধ মা-বাপ, বৃদ্ধনিবাস থাকে;
ঢুস দে রে তুই তাকে৷৷’

 

কবি তাঁর শাণিত মেধা আর ধারালো কলম নামক অস্ত্র দিয়ে বইটিকে সাজিয়েছেন সুবিশাল জগতের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি নিরিখে৷ তাঁর রচিত অন্যান্য বইগুলো পাঠক প্রিয়তা অর্জন করেছে৷ আমি আশা করি এ বইটিও আপন যোগ্যতাবলে পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করবে৷ কবির হাত ধরে রচিত হোক আরো নতুন নতুন কবিতা সেই কামনা রাখি৷

 

লেখক: নাসিম আহমদ লস্কর, শিক্ষার্থী: বিবিএ প্রোগ্রাম, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

Share Button